বিএমইটিতে আকন্দের প্রেতাত্মাদের দুর্দান্ত দাপট

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ৯ আগস্ট ২০২১ ১৩:২৩; আপডেট: ৯ আগস্ট ২০২১ ১৩:৩৮

বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি। দক্ষতা উন্নয়ন ও অভিবাসী কর্মীদের অধিকতর কল্যান ও নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশ্ব শ্রম বাজারে বাংলাদেশী কর্মীদের চাহিদার ভিত্তিতে যথাযথ কারিগরি প্রশিক্ষন প্রদান, সুষ্ঠ ও সুসংহত অভিবাসন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কর্মপ্রত্যাশী জনগোষ্ঠির বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরী ও কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যান ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী উইংস হচ্ছে ৮৯/২, কাকরাইলস্থ ”জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষন ব্যুরো” অর্থাৎ বিএমইটি।

যুগের পর যুগ এই বিএমইটি অফিস থেকে ম্যানপাাওয়ার (ছাড়পত্র) নিয়ে লক্ষ লক্ষ কর্মী বিদেশে গিয়ে তাদের পরিবারের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রেখে আসছে। সরকারের এই গুরুত্বপূর্ন উইংসকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য বিএনপি জামায়াতের সাথে সংশ্লিষ্ঠতা আছে এরকম কিছু অসাধু কর্মকর্তার সাথে একত্রিত হয়ে কুমিল্লা নোয়াখালী বেল্টের বিএনপি জামায়াত ঘরোনার কিছু রিক্রুটিং এজেন্সি একত্রিত হয়ে এই সিন্ডিকেট বলয় তৈরী করে

। মাহামুদুল্লা আকন্দ গং দ্বারা নির্যাতিত বিভিন্ন লাইসেন্স এর মালিক/ প্রতিনিধিদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় কেবলমাত্র আকন্দ ও নিজাম পাটোয়ারীকে অন্যত্র বদলি করা হলেও ডেপুটি ডিরেক্টর নাসিরউজ্জামান ও পল্টনস্থ মাসুদ জামিল ওভারসিস আর এল ১৪০০ ও ইস্তেমা ইন্টারন্যাশনাল আর এল - ১২৫১ এর মালিক হামিদুল্লা গং দের দাপট দিন দিন বেড়েই চলছে। ভিন্ন ভিন্ন কুট কৌশলের প্রধান হোতা মাহামুদুল্লা আকন্দ বর্তমান ডিজি কে বাগে আনার জন্য উক্ত হামিদুল্লাকে ডিজির পেছনে লেলিয়ে দিয়েছে।

কারন আকন্দ গংদের দৃঢ় বিশ্বাস বর্তমান ডিজি তাদের অন্যত্র বদলির জন্য ব্যপক ভূমিকা রেখেছেন। তাই তারা প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে হামিদুল্লার মাধ্যমে ডিজিকে বিভিন্ন উপঢৌকন দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে প্রতিনিয়ত ডিজির রুমের সামনে ঘুর ঘুর করছেন।

ডিজি মহোদয় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অত্যান্ত সততার সাথে বিএমইটির সংস্কার কাজ থেকে শুরু করে প্রশাসনের প্রতিটি শাখায় দুর্নীতির মুলৎপাটনের লক্ষ্যে কাজ করে ব্যপক প্রশংসিত হয়েছেন। কিন্তু মাহামুদুল্লা ও হামিদুলাøদের কুটিল মারপ্যাচে পড়ে ডিজি মহোদয়ের প্রশংসিত সকল কাজ নিমিষেই মুখ থুবরিয়ে পড়বে বলে মনে হচ্ছে। ডিজি মহোদয় সকলের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং সমস্যার কথা শুনে সমাধানের চেষ্টা করে থাকেন প্রতিনিয়ত।

আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে হামিদুল্লা ডিজির সাথে সাক্ষাতের পরপরই ডিজি সম্বন্ধে বিভিন্ন মিথ্যা রটনা রটিয়ে পাবলিক সেন্টিমেন্টকে প্রভাবিত করছেন। উল্লেখ্য বর্তমান ডিজি যাতে বিএমইটির ডিজি হতে না পারে এই জন্য মাহামুদুল্লা আকন্দ জনপ্রশাসনে উড়ো চিঠি প্রেরন করেন এবং তাদের মনোনীত মিজানুর রহমান চৌধুরী যাতে ডিজি হয়ে আসে এজন্য আকন্দের নির্দেশে হামিদুল্লা আরো ১০/১৫ টি লাইসেন্সের মালিকের সাথে পরামর্শ করে প্রায় দুই কোটি টাকা প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে ইনভেষ্ট করে। কিন্তু বিধি বাম, হামিদুল্লা ও মাহামুদুল্লার সকল প্লান ভেস্তে যায়।

কিন্তু তাদের ”প্লান-বি” কে সাকসেস করার জন্য ডিজি মহোদয়কে বিভিন্ন ভাবে বিতর্কিত করার কুটকৌশল অবলম্বন করেন। ডিজি মহোদয় এখনি সতর্ক না হলে হয়ত মাহামুদুল্লা/ হামিদুল্লদের প্লান অচিরেই বাস্তবায়িত হবে বলে রিক্রুইটিং লাইসেন্সের মালিকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অন্যদিকে হামিদুল্লার নিজস্ব ২টি লাইসেন্স সহ স্ত্রীর নামে রাজমুকুট ইন্টঃ নামে প্রস্তাবিত আরো একটি লাইসেন্স আছে।

সরেজমিনে দেখা যায় হামিদুল্লার অধিনে আরো ৮/১০ টি লাইসেন্স আছে যা কেবলমাত্র অবৈধ কাজ / ম্যানপাওয়ার করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে চিটাগং ট্রাভেল ইন্টাঃ আর এল - ৮০৫, সঞ্জুরী ইন্টাঃ আর এল - ৭৪২, মুন ওভারসীস আর এল ৯৩৭, আলভী ইন্টাঃ আরএল - ৩৭৫, খাজা পরিবহন সংস্থা আর এল - ০০৯৮, আল আব্বাস ইন্টাঃ আর এল - ২৪৮ উল্ল্যেখ যোগ্য। হামিদুল্লার নিজস্ব এবং নিয়ন্ত্রনাধীন ৬/৭ টি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে বিগত তিন চার বছরে বাংলাদেশ হতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জাল ভিসা ও ভূয়া নিয়োগকর্তার অধিনে লক্ষ্যাধীক কর্মী প্রেরন করা হয় বলে জানা যায়। বিগত সময় বহুলালোচিত লিবিয়া ও ভিয়েতনামে মানব পাচারের সহিত তিনি ও তার এজেন্সি সমূহ সরাসরি ভাবে জড়িত।

এসব বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্থ কর্মীরা বা কর্মীদের নিকট আত্বিয়রা বিএমইটিতে অসংখ্য অভিযোগ দাখিল করেছে। বিএমইটির বর্হিগমন শাখার মতোই কর্মসংস্থান শাখায়ও হামিদুল্লার রয়েছে একছত্র আধিপত্ত্ব। কর্মসংস্থান শাখার উর্ধ্বতন পরিসংখ্যান কর্মকর্তা তাহার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগের নিষ্পত্ত্বি করে থাকেন।

এছাড়া হামিদুল্লার রয়েছে নিয়ন্ত্রিত সন্ত্রাসী বাহিনী যাদের দ্বারা অভিযোগকারী প্রবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারকে বিভিন্ন সময় ভয়-ভিতি প্রদর্শন ও হুমকি দিয়ে অভিযোগ প্রত্যাহারে বাধ্য করেন। এমনকি বিএমইটিতে কেউ অভিযোগ করতে এলে তাদেরকে উক্ত সন্ত্রাসী বাহিনী জোড় পূর্বক আপোষ - নিষ্পত্তি নামায় সাক্ষর করিয়ে ক্ষতিপূরন না দিয়ে ক্ষতিপূরন গ্রহনের প্রাপ্তি স্বীকারপত্র সাক্ষর করিয়ে নেয়।

এসব অপকর্মে তাকে উক্ত প্রভাবশালি কর্মকর্তা সহায়তা প্রদান করে। এ বিষয়ে সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হলে সঠিকতা প্রমানীত হবে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানান। হামিদুল্লার নিজের লাইসেন্সে শত শত অভিযোগ প্রতি বছর জমা পড়ে। অধিকাংশেরই কোন সুরাহা হয় না।

ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার থেকে উপেক্ষিত হয় প্রতিনিয়ত। এর মূল কারন হচ্ছে আকন্দের প্রধান উপদেষ্টা কর্মসংস্থান শাখার ডিডি মাসুদ রানার মাধ্যমে সকল অভিযোগ ধামাচাপা পড়ে যায়। কর্মসংস্থান শাখার পরিচালকের প্রধান হস্ত হিসেবে মাসুদ রানা সর্বজন পরিচিত। অত্যান্ত দুঃখের বিষয় কর্মসংস্থান শাখার বিভিন্ন লাইসেন্সের বিপরীতে কতগুলো অভিযোগ জমা পড়ে এবং নিস্পত্তি হয় এবং নিস্পত্তি হয়নি এমন কোন পরিসংখ্যান মন্ত্রনালয়ে ও বিএমইটিতে সামারি সংক্ষেপ হিসেবে কখনও উপাস্থাপিত হয়নি।

সামারি সংক্ষেপ থাকলে অন্তত জানা যেত যে, কোন কোন লাইসেন্স কি পরিমান অভিযোগ নিস্পত্তি করেনি এবং কোন কোন লাইসেন্স খারাপ লাইসেন্স হিসেবে চিহ্নিত যেখানে সহজ সরল কর্মীদের রক্ষার দায়িত্বে নিয়যিতরাই ভক্ষকের ভুমিকায় অবতীর্ন হচ্ছে সেখানে ন্যায় বিচার নিরবে কাঁদে।

উল্লেখ্য যে বিএমইটির এমন কোন উইংস নেই যেখানে এই সিন্ডিকেটের নিজস্ব লোক নেই। দীর্ঘ দেড় যুগে গড়ে উঠেছে সিন্ডিকেটের এক মহাপ্রাচীর। ডিজি অফিসের হিন্দু ধর্মাবলম্বী এক স্টাফ ডিজি মহোদয়ের সাথে এই গ্রুপের কানেক্টিভিটি তৈরীতে ব্যপক তৎপর।



বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top